পাঠাও ব্লগ

সকল বিবৃতি, আপডেট, রিলিজ ও অন্যান্য

blog image

ডেলিভারি সাকসেস রেট কীভাবে ব্যবসার লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করে

বাংলাদেশে যেকোনো অনলাইন ব্যবসার জন্য প্রতিটি ব্যর্থ ডেলিভারি মানেই ডাবল লোকসান। যখন একটি পার্সেল কাস্টমারের কাছে যায়, তখন একবার ডেলিভারি চার্জ লাগে। আবার কাস্টমার সেটি রিসিভ না করে ফেরত পাঠালে, ব্যাক ডেলিভারি চার্জও গুণতে হয়।

অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ডেলিভারি সাকসেস রেট কেবল লজিস্টিকসের হিসাব নয়; এটি সরাসরি আপনার ব্যবসার লাভ, ক্যাশ ফ্লো, কাস্টমারের ভরসা এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির সাথে জড়িত। এই ব্লগে আমরা জানবো DSR কী, কেন এটি কমে যায় এবং কীভাবে এটি উন্নত করে ব্যবসার লাভ বাড়ানো সম্ভব।

ডেলিভারি সাকসেস রেট (DSR) কী এবং এটি কীভাবে হিসাব করা হয়?

মোট যতগুলো অর্ডার শিপমেন্ট বা পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে কত শতাংশ অর্ডার সফলভাবে কাস্টমারের হাতে পৌঁছেছে, তার অনুপাতই হলো ডেলিভারি সাকসেস রেট (DSR)।

এটি হিসাব করার সহজ সূত্র:

উদাহরণ: আপনি যদি ১০০টি অর্ডার পাঠান এবং তার মধ্যে ৮৫টি সফলভাবে ডেলিভারি হয়, তবে আপনার ডেলিভারি সাকসেস রেট (DSR) হবে ৮৫%।

বাংলাদেশে সাধারণত অনলাইন ব্যবসাগুলোর গড় ডেলিভারি সাকসেস রেট ৭৫% থেকে ৮৫% হয়ে থাকে। তবে ভালো এবং নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার পার্টনার ব্যবহার করে শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্টরা ৯০%+ এর বেশি সাকসেস রেট পেয়ে থাকেন।

যখন একটি ডেলিভারি প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়, তখন তাকে NDR (Non-Delivery Report) বলা হয়। আর এই সমস্যার সমাধান না হলে পার্সেলটি মার্চেন্টের কাছে ফেরত আসে, যাকে বলা হয় RTO (Return to Origin)। ই-কমার্সে এই RTO রেট বেশি হওয়া মানেই ব্যবসার বড় ক্ষতি।

ব্যর্থ ডেলিভারির আসল আর্থিক ক্ষতি: একটি সহজ হিসাব

ধরা যাক, একজন মার্চেন্ট প্রতিদিন ১০০টি অর্ডার পাঠান।

  • পণ্যের গড় মূল্য: ৮০০ টাকা
  • ডেলিভারি চার্জ: ১৩০ টাকা

যদি রিটার্ন বা RTO রেট ২০% হয়:

  • প্রতিদিন ব্যর্থ ডেলিভারি: ২০টি পার্সেল
  • প্রতিটি ব্যর্থ ডেলিভারির খরচ: ১৯৫ টাকা (যাওয়া এবং আসার খরচ মিলিয়ে)
  • দৈনিক লোকসান: ৩,৯০০ টাকা
  • মাসিক লোকসান: ১,১৭,০০০ টাকা

মনে রাখবেন: এটি কিন্তু শুধুমাত্র ডেলিভারি কোম্পানির খরচ! এর সাথে পণ্যের ক্ষতি, প্যাকেজিং নষ্ট হওয়া এবং ফেসবুক/গুগল অ্যাডের পেছনে অপচয় হওয়া টাকা হিসাব করলে লোকসানের অঙ্ক আরও অনেক বড় হবে।

কম ডেলিভারি সাকসেস রেট যেভাবে ব্যবসার ক্ষতি করে

১. অর্ডার প্রতি লজিস্টিকস খরচ বাড়ে: ডেলিভারি ফেইল করলে রিটার্ন আসার কারণে প্রতি অর্ডারে খরচ ২ থেকে ৩ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

২. কাস্টমারের আস্থা ও রিপিট পারচেজ কমে: কাস্টমার যদি সময়মতো বা ভালো অভিজ্ঞতার সাথে প্রোডাক্ট না পান, তবে তারা ওই পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে দ্বিতীয়বার কেনাকাটা করতে চান না।

৩. ক্যাশ ফ্লো বা নগদ টাকার সংকট: কাস্টমার ক্যাশ অন ডেলিভারিতে (COD) প্রোডাক্ট না নিলে বা দেরি করলে টাকা আটকে থাকে। ফলে ব্যবসায় পুনরায় ইনভেস্ট করার মতো ক্যাশ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকট দেখা দেয়।

৪. বিজ্ঞাপনের টাকা নষ্ট: আপনি যে কাস্টমারকে অ্যাড দেখিয়ে প্রোডাক্টটি সেল করেছিলেন, ডেলিভারি ফেইল হওয়ার কারণে সেই অ্যাডের পেছনে করা পুরো খরচটিই পানিতে যায়।

৫. ইনভেন্টরি বা স্টক জ্যাম: ফেরত আসা প্রোডাক্টগুলো আবার চেক করা, নতুন করে প্যাক করা এবং স্টকে তোলার জন্য বাড়তি সময় ও শ্রম লাগে, যা পিক সিজনে (যেমন ঈদে) ব্যবসার গতি কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে ডেলিভারি সাকসেস রেট ঠিক রাখার মূল বিষয়গুলো

বিষয়ব্যবসার ওপর প্রভাবসমাধান
কুরিয়ার রাইডারের দক্ষতাডেলিভারি সফল হওয়ার পেছনে রাইডারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।ভেরিফাইড এবং দক্ষ রাইডার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা।
রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংকাস্টমার পার্সেলের অবস্থান জানতে পারলে ডেলিভারি মিস হওয়ার সুযোগ কমে।কাস্টমারকে লাইভ ট্র্যাকিং এবং SMS আপডেট দেওয়া।
COD কনফার্মেশনদোরগোড়ায় গিয়ে কাস্টমার প্রোডাক্ট রিফিউজ করার ঝুঁকি কমায়।ডেলিভারির আগে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
সঠিক ঠিকানাভুল ঠিকানার কারণে পার্সেল এদিক-ওদিক হওয়া বন্ধ করে।ডিজিটালি সঠিক এবং স্পষ্ট ঠিকানা নেওয়া।
প্যাকেজিং কোয়ালিটিযাতায়াতের পথে প্রোডাক্ট নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায়।উন্নত ও নিরাপদ প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা।

কীভাবে আপনার ডেলিভারি সাকসেস রেট (DSR) বাড়াবেন?

আপনার ব্যবসার RTO বা রিটার্ন রেট কমিয়ে সাকসেস রেট বাড়াতে এই পদক্ষেপগুলো নিন:

  • পণ্য প্যাকেজিং করার আগে কাস্টমারের ফোন নম্বরটি সঠিক কিনা তা যাচাই (Verify) করে নিন।
  • কুরিয়ারে বুকিং করার পর কাস্টমারকে কনফার্মেশন মেসেজ পাঠান।
  • এমন কুরিয়ার সার্ভিস বেছে নিন যা কাস্টমার ও মার্চেন্ট উভয়কেই রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও নোটিফিকেশন দেয়।
  • আপনার পেজ বা ওয়েবসাইটের ছবির সাথে যেন আসল প্রোডাক্টের মিল থাকে, তা নিশ্চিত করুন।
  • প্রতি মাসে আপনার DSR ট্র্যাক করুন এবং কোন কোন জোনে ডেলিভারি বেশি ফেইল হচ্ছে তা চিহ্নিত করুন।

কুরিয়ার পার্টনার হিসেবে কেন ‘পাঠাও কুরিয়ার’ মার্চেন্টদের প্রথম পছন্দ?

মার্চেন্টদের ডেলিভারি সাকসেস রেট বাড়াতে এবং ব্যবসা স্কেল করতে পাঠাও কুরিয়ার একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।

  • দেশের বৃহত্তম সর্টিং সেন্টার যার প্রতিদিনের অর্ডার প্রসেসিং ক্ষমতা ৫ লক্ষ্য এরও বেশি।
  • সারা বাংলাদেশে দক্ষ রাইডারের বিশাল নেটওয়ার্ক।
  • কাস্টমার ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্যই রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং ইনস্ট্যান্ট SMS নোটিফিকেশন সুবিধা।
  • মার্চেন্টদের যেকোনো সমস্যায় সহায়তার জন্য ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট।
  • প্রোডাক্টের সুরক্ষায় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সেফটি কভারেজ।

এই সব সুবিধার কারণে পাঠাও কুরিয়ারের ডেলিভারি সাকসেস রেট দেশের অন্যতম সেরা। অনেক মার্চেন্ট পাঠাও কুরিয়ারে শিফট করার পর তাদের RTO বা রিটার্ন রেট লক্ষণীয়ভাবে কমিয়ে আনতে পেরেছেন।

১. বাংলাদেশে অনলাইন সেলারদের জন্য ভালো ডেলিভারি সাকসেস রেট (DSR) কত?

সাধারণত ৮০% থেকে ৮৫% সাকসেস রেটকে স্ট্যান্ডার্ড বা ভালো ধরা হয়। তবে পাঠাও-এর মতো নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার ব্যবহার করে অনেক মার্চেন্ট ৯০%-এর বেশি সাকসেস রেট বজায় রাখছেন। DSR ৭৫%-এর নিচে নেমে গেলে বুঝতে হবে লজিস্টিকস বা কাস্টমার কমিউনিকেশনে সমস্যা আছে।

২. আমি কীভাবে আমার ডেলিভারি সাকসেস রেট হিসাব করব?

DSR% = সফল ডেলিভারির সংখ্যা ÷ মোট পাঠানো পার্সেলের সংখ্যা x 100

৩. বাংলাদেশে হাই RTO (রিটার্ন) রেটের প্রধান কারণগুলো কী কী?

ভুল ঠিকানা, ডেলিভারির সময় কাস্টমারকে ফোনে না পাওয়া, ক্যাশ অন ডেলিভারিতে শেষ মুহূর্তে কাস্টমারের মত পরিবর্তন, কুরিয়ার রাইডারের সাথে সমন্বয়ের অভাব এবং পেইজের ছবির সাথে আসল প্রোডাক্টের অমিল।

৪. কম ডেলিভারি সাকসেস রেট আমার ব্যবসাকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে?

এটি প্রতি অর্ডারের পেছনে লজিস্টিকস খরচ বাড়িয়ে দেয়, প্রফিট মার্জিন কমায়, ক্যাশ ফ্লো আটকে দেয় এবং কাস্টমারদের আস্থা নষ্ট করে, যা ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির পথ বন্ধ করে দেয়।

৫. বাংলাদেশে কোন কুরিয়ারের ডেলিভারি সাকসেস রেট সবচেয়ে ভালো?

পাঠাও কুরিয়ার-এর বিশাল রাইডার নেটওয়ার্ক, উন্নত ট্র্যাকিং টেকনোলজি এবং শক্তিশালী মার্চেন্ট সাপোর্টের কারণে সর্বোচ্চ ডেলিভারি সাকসেস রেট ও লো-RTO নিশ্চিত করার জন্য সমাদৃত।

৬. একজন অনলাইন সেলার হিসেবে আমি কীভাবে রিটার্ন (RTO) কমাতে পারি?

অর্ডার কনফার্ম করার সময় কাস্টমারের তথ্য যাচাই করুন, ডেলিভারির আগে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন, ট্র্যাকিং সুবিধাসম্পন্ন কুরিয়ার ব্যবহার করুন এবং কাস্টমারকে সঠিক ও মানসম্মত প্রোডাক্ট পাঠান।

একটি শক্তিশালী ডেলিভারি সিস্টেম কেবল পার্সেল পৌঁছানোর মাধ্যম নয়; এটি আপনার ব্যবসার গ্রোথ বা বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। ডেলিভারি সাকসেস রেট যত বেশি হবে, আপনার খরচ তত কমবে, ক্যাশ ফ্লো সচল থাকবে এবং কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতা তত বৃদ্ধি পাবে।